পবিত্র শবে কদরের রাত থেকেই ফিলিস্তিনিদের উপর হামলা শুরু করেছিল ইসরাইল। তাই রমজান শেষ করে ঈদ উদযাপন করতে পারেননি গাজাবাসী। শুক্রবার সকাল থেকে ইসরাইল ও ফিলিস্তিনিদের মধ্যে যখন যুদ্ধ বিরতি কার্যকর হয় তখনই সেখানকার মুসলিমরা ঈদের খুশিতে মেতে উঠে।



বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, হামাসের নেতারা বিজয় ভাষণ শুরু করেন ঈদের খুতবা দিয়ে। মঞ্চের সামনের দাড়িয়ে থাকা জনতা ঈদের তাকবীর দিতে শোনা যায়।



গাজা উপত্যকা হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা খলিল আল-হাইয়া তার ভাষনের শুরুতেই তাকবির দেন। আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু আল্লাহু আকবার ওয়ালিল্লাহিল হামদ।



এরপর সমাবেত লোকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আজ আমাদের বিজয়ের ঈদ। হে রব, আপনার বহুত শুকরিয়া, আপনি আমাদের শত্রুদের ঠেকিয়ে দিয়েছেন, আমাদের জনগণকে বিজয় দিয়েছেন। জেরুসালেমকে বিজয়ী করেছেন, শেখ জাররাহকে বিজয়ী করেছেন, সকল স্থানের জনগণকে বিজয় দান করেছেন।



তিনি বলেন, হে রব, আপনার বহুত শুকরিয়া, আজকের দুই উপলক্ষের ঈদ আমাদের নসিব করানোর জন্য; রমজানের শেষ হওয়ার এবং জেরুসালেম ও ফিলিস্তিনের সম্মান ও মর্যাদাকর বিজয়ের উপলক্ষ।



ভাষনের এক পর্যায়ে সমাবেত হওয়া জনতা স্লোগান দিতে থাকে ‘তেল আবিব আমাদের থেকে দূরে থাকো।’



১১ দিন যুদ্ধের পর বৃহস্পতিবার রাতে ইসরাইল ও হামাস যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার কথা ঘোষণা করে। ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর অফিস জানায়, সিকিউরিটি ক্যাবিনেট সর্বসম্মতভাবে শর্তহীন একটি যুদ্ধবিরতির ব্যাপারে মিসরীয় উদ্যোগ গ্রহণ করার সুপারিশ করেছে।



শুক্রবার ভোর থেকে এই যুদ্ধ বিরতি কার্যকর হয়। এই কয়দিনে ইসরাইলি হামলায় গাজায় অন্তত ২৩২ জন নিহত হয়েছে। এদের মধ্যে শিশু ৬৫ জন। আর ইসরাইলে দুই শিশুসহ নিহত হয়েছে ১২ জন।



আরও সংবাদ



পিছু হটল ইসরাইল, গাজায় হামাসের বিজয়



ইসরাইলকে পরাজিত করে গাজা যুদ্ধে হামাসের বিজয় হয়েছে। টানা ১১ দিনের যুদ্ধের পর ইসরাইল অস্ত্রবিরতিতে সম্মত হওয়ায় এমনটাই দাবী করছেন গাজা উপত্যকা হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা খলিল আল-হাইয়া।



যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর শুক্রবার গাজা শহরে উদযাপনরত হাজার হাজার মানুষের উদ্দেশে দেয়া বক্তৃতায় এমন অভিব্যক্তি প্রকাশ করেন হামাসের জ্যেষ্ঠ এই নেতা। তিনি বলেন, ‘এটি বিজয়ের উচ্ছ্বাস।’



ওই সময় তিনি ইসরাইলের বিমান হামলায় বিধ্বস্ত বাড়িঘর পুনর্নির্মাণের আশ্বাস দেন। হামাস ও ইসরাইলের মধ্যে ১০ মে থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধে রক্তপাত বন্ধে ব্যাপক আন্তর্জাতিক চাপের মধ্যে মিসরের মধ্যস্থতায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় দুই পক্ষ।



হামাস ও ইসলামিক জিহাদের সাথে ইসরাইলের এ অস্ত্রবিরতি কার্যকর হয় শুক্রবার থেকে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, ইসরাইলি হামলায় উপত্যকায় ২৩২ ফিলিস্তিনি নিহত হয়, যাদের মধ্যে ৬৫ শিশু ও হামাস যোদ্ধা রয়েছে। হামলায় আহত হয়েছে এক হাজার ৯০০ মানুষ।



হামাসের হিসাব অনুযায়ী, বিমান হামলায় বিপুল জায়গা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। বাস্তুচ্যুত হয়েছে প্রায় এক লাখ ২০ হাজার মানুষ।



ইসরায়েলের সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, হামাস ও সশস্ত্র অন্য সংগঠনগুলো ইসরাইলের দিকে চার হাজার ৩০০-এর বেশি রকেট ছুড়েছে। এর বেশির ভাগই আটকে দিয়েছে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আয়রন ডোম।



ইসরাইলের পুলিশ জানিয়েছে, গাজা থেকে ছোড়া রকেটে ইহুদি রাষ্ট্রটিতে ১২ জন নিহত হয়েছে, যার মধ্যে দুই শিশু রয়েছে। এ ছাড়া এক ভারতীয় ও থাইল্যান্ডের দুই নাগরিকও প্রাণ হারিয়েছেন।