প্রমাণ হলো ইসরাইল মাকড়সার জালের চেয়েও দুর্বল: হিজবুল্লাহ




লেবাননের ইসলামী প্রতিরোধ আন্দোলন হিজবুল্লাহ বলেছে, ফিলিস্তিনিদের ‘সোর্ড অব কুদস’ অভিযানে প্রমাণিত হয়েছে দখলদার ইসরাইল মাকড়সার জালের চেয়েও দুর্বল।


৷ সংগঠনটি আজ (শুক্রবার) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এ কথা বলেছে। ‘


হিজবুল্লাহ আরও বলেছে, দখলদার ইসরাইলের বিরুদ্ধে বিজয়ে ফিলিস্তিনিদের শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। এবারের ‘সোর্ড অব কুদস’ শীর্ষক প্রতিরোধ সংগ্রাম ইহুদিবাদী শত্রুদের ওপর নতুন সমীকরণ চাপিয়ে দিয়েছে।


এই বিজয় এই অঞ্চলের ভবিষ্যৎ সংঘাতের ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলবে। এর মধ্যদিয়ে সামরিক ও নিরাপত্তা ক্ষেত্রে ইসরাইলের নানা দুর্বলতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।


বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, হিজবুল্লাহ মনে করে অদূর ভবিষ্যতেই গোটা ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড মুক্ত হবে।


১১ দিনের বীরত্বপূর্ণ প্রতিরোধের মুখে দখলদার ইসরাইল ফিলিস্তিনিদের শর্ত মেনে যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়ন শুরু করেছে। লেবাননের হিজবুল্লাহ প্রথম থেকেই ফিলিস্তিনিদের আন্দোলনে সমর্থন ও সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে। সুত্র: পার্সটুডে


ফিলিস্তিনে বিজয় মিছিল: হামাস নেতা বললেন ‘আজ আমাদের ঈদ’


মিশরের মধ্যস্থতায় ইহুদিবাদী ইসরাইল ও ইসলামী প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসের মধ্যকার যুদ্ধবিরতি চুক্তির পর ফিলিস্তিনের সর্বত্র বিজয় মিছিল হয়েছে।


১১ দিনের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ২টা থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়।


যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকরের পরপরই গাজা, পূর্ব জেরুজালেমসহ ফিলিস্তিনের বিভিন্ন শহরের মানুষ রাস্তায় নেমে আসেন। এসময় মহান আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে নানা শ্লোগান নেন। আতশবাজিতে আলোকিত হয়ে ওঠে আকাশ।


বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, হামাসের নেতারা বিজয় ভাষণ শুরু করেন ঈদের খুতবা দিয়ে। মঞ্চের সামনের দাঁড়িয়ে থাকা জনতা ঈদের তাকবীর দিতে শোনা যায়।


গাজা উপত্যকা হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা খলিল আল-হাইয়া তার ভাষণের শুরুতেই তাকবির দেন। ‘আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু আল্লাহু আকবার ওয়ালিল্লাহিল হামদ’।


এরপর সমাবেত জনতার উদ্দেশে তিনি বলেন, “আজ আমাদের বিজয়ের ঈদ। হে রব, আপনার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই, আপনি আমাদের শত্রুদের পরাজিত করে আমাদের জনগণকে বিজয় দিয়েছেন।


আল কুদসকে বিজয়ী করেছেন, শেখ জাররাহকে বিজয়ী করেছেন, সকল স্থানের জনগণকে বিজয় দান করেছেন।“


ইহুদিবাদী ইসরাইলের মন্ত্রিসভা গাজায় যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠা করার বিষয়টি মেনে নিতে বাধ্য হয়। ওই মন্ত্রিসভা বলেছে, তারা যুদ্ধবিরতির ব্যাপারে ‘মিশরীয় প্রস্তাব’ মেনে নিয়েছে।


গাজায় হামলা বন্ধের পাশাপাশি আল-আকসা মসজিদ ও শেখ জাররাহ এলাকা থেকে সেনা সরিয়ে নেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ইসরাইল। হামাসের পলিটিক্যাল ব্যুরোর প্রধানের গণমাধ্যম বিষয়ক উপদেষ্টা তাহের আল-নুনু গাজায় সাংবাদিকদের বলেছেন, তেল আবিব যতক্ষণ পর্যন্ত শর্ত মেনে চলবে ততক্ষণ পর্যন্ত হামাসও যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়ন করবে।


গত ৭ মে পবিত্র মাহে রমজানের শেষ শুক্রবার বিশ্ব কুদস দিবসে বিপুল মুসল্লি আল-আকসা মসজিদে সমবেত হলে ইসরাইলি বাহিনী তাদের হামলা চালায়। মসজিদে ঢুকে মুসল্লিদের লক্ষ্য করে রাবার বুলেট ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে বর্বর ইসরাইলি বাহিনী।


এর দুদিন পর পবিত্র শবে কদরেও আল-আকসা মসজিদে ইসরাইলি বাহিনীর সঙ্গে মুসল্লিদের সংঘর্ষ হয়। এর প্রতিবাদে গাজা সীমান্তে বিক্ষোভ শুরু হয়।


পরে গত ১০ মে থেকে গাজায় বিমান হামলা শুরু করে ইসরাইল। ফিলিস্তিনিরা রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তোলে। তীব্র প্রতিরোধের মুখে অবশেষে যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে সই করতে বাধ্য হয় দখলদার ইসরাইল সরকার। সুত্র: পার্সটুডে


এবার ইসরাইলে হামলা চালাল ইরানের সামরিক ড্রোন!


গাজার হামাস, লেবাননের হিজবুল্লাহর রকেট হামলার মধ্যেই ইসরাইল-জর্ডান সীমান্তে বিস্ফোরকবাহী ইরানি সামরিক ড্রোনের দেখা মিলেছে।


ইরান থেকে বিস্ফোরকবাহী ড্রোন পাঠানো হয়েছে বলে দাবি করেছে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী। তবে সেটি ধ্বংস করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।


বৃহস্পতিবার জার্মানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাইকো মাস ইসরাইল সফরে যান। গাজায় চলমান সংঘাতে তিনি ইসরাইলকে সমর্থন করেন।


এ সময় সাংবাদিক সম্মেলনে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু বলেন, আমাদের বৈঠকের সময়েও বিভিন্নমুখী যুদ্ধ মোকাবেলা করতে হয়েছে, এই আগ্রাসনের বেশিরভাগ সমর্থন রয়েছে ইরানের।


এ সময় জার্মানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাইকো মাসকে নেতানিয়াহু বলেন, দুই দিন আগে জর্ডান সীমান্তের কাছে ইরানের ড্রোন ভূপাতিত করেছে ইসরাইল।


আমরা যখন এখানে সংঘাতের মধ্যে রয়েছি, কয়েক দিন আগে ইরান সেখানে সামরিক ড্রোন পাঠিয়েছে। ইসরাইলের সঙ্গে জর্ডান সীমান্তে ইরাক অথবা সিরিয়া থেকে আমাদের বাহিনী বাধাগ্রস্ত হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন।


গাজায় চলমান সংঘাতে এখন পর্যন্ত ২৩০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ৬৪ শিশু এবং ৩৮ নারী আছেন। অপরদিকে হামাসের হামলায় ১৩ জন ইসরাইলি নিহত হয়েছেন।


এদিকে ফিলিস্তিনিদের জন্য মানবিক সহায়তার আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের প্রধান অ্যান্তনিও গুতেরেস। আন্তর্জাতিক সংগঠন সেভ দ্য চিলড্রেনের মতে, গাজার ৫০টি স্কুল ধ্বংস করেছে ইসরাইলি বাহিনী। এতে প্রায় ৪২ হাজার শিক্ষার্থীর স্কুলজীবন হুমকির মুখে পড়েছে।


জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ওআইসিসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং বিশ্ব নেতাদের যুদ্ধবিরতির আহ্বান কানে তুলছে না ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।


হামাসের উপর্যুপরি রকেট হামলা, ইসরাইলে বাড়ছে মৃতের সংখ্যা


ইসরাইলে রকেট হামলার পর একটি বহুতল ভবনের এমন দৃশ্য দেখা যায়। ছবি ইসরাইলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের টুইটারে আপলোড করা হয়েছে।


ইসরাইলে রকেট হামলার পর একটি বহুতল ভবনের এমন দৃশ্য দেখা যায়। ছবি ইসরাইলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের টুইটারে আপলোড করা হয়েছে


ফিলিস্তিনের ভূখণ্ড গাজা থেকে ইসরাইলে অব্যাহত রকেট হামলা চালাচ্ছে ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস। গত ২৪ ঘণ্টায় গাজা থেকে ইসরাইলের ৫টি অঞ্চলে রকেট হামলা চালানো হয়েছে।


বৃহস্পতিবার ইসরাইলের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, চব্বিশ ঘণ্টায় অন্তত ৮০টি রকেট হামলা চালিয়েছে হামাস। এর মধ্যে ৯০ শতাংশ রকেট আয়রন ডোম দিয়ে ধ্বংস করার দাবি করেছে দেশটির সেনাবাহিনী।


ইসরাইলের জাতীয় জরুরি স্বাস্থ্য সেবার বরাত দিয়ে বিবিসি জানিয়েছে, হামাসের হামলায় ইসরাইলে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৩ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ছাড়া সাড়ে তিন শতাধিকের বেশি নাগরিক আহত হয়েছে।


খবরে বলা হয়েছে, সরাসরি রকেট হামলা ও বিস্ফোরণে ১০ জন ইসরাইলির মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া গুরুতর জখম নিয়ে তিনজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে।


গাজায় চলমান সংঘাতে এখন পর্যন্ত ২৩০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ৬৪ শিশু এবং ৩৮ নারী আছেন। অপরদিকে হামাসের হামলায় ১৩ জন ইসরাইলি নিহত হয়েছেন।


এদিকে ফিলিস্তিনিদের জন্য মানবিক সহায়তার আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের প্রধান অ্যান্তনিও গুতেরেস। আন্তর্জাতিক সংগঠন সেভ দ্য চিলড্রেনের মতে, গাজার ৫০টি স্কুল ধ্বংস করেছে ইসরাইলি বাহিনী। এতে প্রায় ৪২ হাজার শিক্ষার্থীর স্কুলজীবন হুমকির মুখে পড়েছে।


জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ওআইসিসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং বিশ্ব নেতাদের যুদ্ধবিরতির আহ্বান কানে তুলছে না ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।


বায়তুল মুকাদ্দাস স্বাভাবিক না হলে ইসরাইলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চলবে: আল-আকসা ব্রিগেডস


ফিলিস্তিনের ইসলামি জিহাদ আন্দোলনের সামরিক শাখা আল-আকসা ব্রিগেডসের প্রভাবশালী সদস্য আবু মুহাম্মাদ বলেছেন, বায়তুল মুকাদ্দাসের পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে যুদ্ধবিরতি হবে না।


পূর্ব বায়তুল মুকাদ্দাসের আল-জাররা এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান ও এরপর মসজিদুল আকসায় মুসল্লিদের ওপর ইসরাইলি হামলা বন্ধের আহ্বানে সাড়া না দেওয়ায় গাজা থেকে প্রতিক্রিয়া দেখায় ফিলিস্তিনিরা।


এখন পূর্ব বায়তুল মুকাদ্দাসের আল-জাররা ও মসজিদুল আকসার পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে ফিলিস্তিনিরা কোনো যুদ্ধবিরতি মানবে না বলে গাজার সংগ্রামী সংগঠনগুলো এর আগেও জানিয়েছে।


আল-কুদস ব্রিগেডসের সদস্য আবু মুহাম্মাদ আর বলেছেন, চলমান যুদ্ধ দীর্ঘ মেয়াদি হবে এবং ফিলিস্তিনিদের দাবি না মানা পর্যন্ত যুদ্ধ চলবে।


তিনি বলেন, আমরা যৌথ কমান্ড সেন্টার থেকে স্পষ্টভাবে বলছি এখন পর্যন্ত কোনো যুদ্ধবিরতি হয়নি, পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে এই যুদ্ধ চলবে আরও অনেক দিন।


আবু মুহাম্মাদ বলেন, ইহুদিবাদী ইসরাইল হয়তো ভাবছে প্রতিরোধ সংগ্রামীদের গোলা-বারুদ ও যুদ্ধ সরঞ্জাম শেষ হয়ে যাবে। কিন্তু তাদের জেনে রাখা উচিত আমরা দীর্ঘ মেয়াদি যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত।


গত ১০ মে থেকে গাজায় আগ্রাসন চালাচ্ছে ইহুদিবাদী ইসরাইল। এ পর্যন্ত গাজায় অন্তত ২৩০ জন ফিলিস্তিনি শহীদ হয়েছেন। এর মধ্যে ৬৫ শিশু ও ৩৮ নারী রয়েছে। এছাড়া গাজায় আহত হয়েছে দেড় হাজারের বেশি মানুষ। অবশ্য ফিলিস্তিনিরাও পাল্টা জবাব হিসেবে ইসরাইলে কয়েক হাজার ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। সুত্র: পার্সটুডে


ইসরাইলি সেনাভর্তি বাসে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাল হামাস


ফিলিস্তিনের ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসের সামরিক শাখা ইজাদ্দিন আল-কাসসাম ব্রিগেড দাবি করেছে, তারা ইসরাইলের সেনাভর্তি একটি বাসে ট্যাংক বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়েছে।


হামাস বলছে, আজ (বৃহ্পতিবার) সকালে সেনাভর্তি বাসে ট্যাংক বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলার পরপরই ওই স্থানে ব্যাপকভাবে মর্টারের গোলা নিক্ষেপ করা হয়।


ইসরাইলি সামরিক বাহিনী বলেছে, ওই বাস খালি ছিল এবং একজন মাত্র সেনা সামান্য আহত হয়েছে।


ইসরাইলের দক্ষিণাঞ্চলে রকেট হামলার সাইরেন বাজানোর পর সেনাভর্তি বাসে হামলার খবর এলো। এর আগে আট ঘণ্টা পর্যন্ত কোনো রকেট হামলা হয় নি।


এদিকে, ইসরাইলি ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মিডিয়া খবর দিচ্ছে যে, শুক্রবারের মধ্যে যুদ্ধবিরতি হতে পারে। এর আগে হামাসের উপ প্রধান আবু মুসা মারজুক জানিয়েছিলেন,


দুই একদিনের মধ্যে যুদ্ধবিরতি হতে পারে। গাজা উপত্যকায় বর্বর আগ্রাসন চালানোর জন্য ইহুদিবাদী ইসরাইল আন্তর্জাতিক অঙ্গনে চাপ ও সমালো