দেশের পাঁচ জেলায় বজ্রপাতে গত শুক্র ও গতকাল শনিবার নয়জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলায় গত শুক্রবার মারা গেছে তিনজন। চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে বজ্রপাতে দুই ভাইবোন মারা যায়। রাঙামাটিতে বজ্রপাতে মা মারা গেছেন, আহত হয়েছে তাঁর দুই মেয়ে।



চুয়াডাঙ্গা:  ৷ জেলার আলমডাঙ্গায় বজ্রপাতের পৃথক ঘটনায় গত শুক্রবার এক স্কুলছাত্রসহ তিনজন মারা গেছেন। তাঁরা হলেন আলমডাঙ্গা উপজেলার আইলহাস ইউনিয়নের শিশিরদাড়ি গ্রামের আরশেদ আলী (৫৫), একই ইউনিয়নের রায়লক্ষ্মীপুর গ্রামের মজিবর রহমানের ছেলে মনোয়ার হোসেন (৩২) এবং ডাউকী ইউনিয়নের বকশিপুর গ্রামের আজিজুল ইসলামের ছেলে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র শাহীন ইসলাম (১১)। আলমডাঙ্গা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এস এম নাজমুল হুদা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।




বাঁশখালী (চট্টগ্রাম): চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার নাপোড়া এলাকায় গতকাল সকালে বজ্রপাতে দুই ভাইবোন মারা গেছে। এরা হচ্ছে জান্নাতুল বাকিয়া (৮) ও মোবারক হোসেন (১০)। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপজেলা জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, হাসপাতালে আনার আগেই শিশু দুটির মৃত্যু হয়। শিশুদের বাবার নাম নুরুল আমিন। বাঁশখালী থানার ওসি স্বপন কুমার মজুমদার জানান, এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।
রাঙামাটি: গতকাল রাঙামাটির বরকল উপজেলার ভূষণছড়া ইউনিয়নে বজ্রপাতে নাজমা বেগম (৩৮) নামের এক গৃহবধূ মারা গেছেন। এ ঘটনায় তাঁর দুই মেয়ে ময়না আক্তার (১৬) ও কুলসুম আক্তার (১৪) আহত হয়। নাজমা বেগমের স্বামী নুর ইসলাম জানান, সকালে সাড়ে ১০টার দিকে হঠাৎ বজ্রপাত হলে বাড়ির বারান্দায় বসে থাকা তিনজনই অজ্ঞান হয়ে পড়ে। তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা নাজমা বেগমকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে দুই বোনকে রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।
রাজবাড়ী: শুক্রবার সন্ধ্যায় সদর উপজেলার শহীদওহাবপুর ইউনিয়নের বড়নূরপুর গ্রামে বজ্রপাতে স্ত্রী পারভীন বেগম (২৩) ও তাঁর দেবর রুবেল শেখ মারা যান। আরমান শেখের স্ত্রী পারভীন। রুবেল কোলা সদর উদ্দিন উচ্চবিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। এ ঘটনায় পারভীনের ছেলে আকিদুল (২) আহত হয়। গতকাল সরেজমিনে দেখা যায়, বসতঘরের বারান্দার বাঁশের খুঁটি ফেটে চৌচির হয়ে গেছে। উঠানের আমড়াগাছে বজ্রপাত পড়ার স্থানে পাতা ঝলসে গেছে।
ফরিদপুর: ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় চরডুবাইল গ্রামে গত শুক্রবার সন্ধ্যায় বজ্রপাতে দিনমজুর রবিউল সরদার (৫২) মারা যান। রবিউল কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর উপজেলার চর সাদিপুর গ্রামের মেসের সরদারের ছেলে। গ্রামের বদু সরদারের বাড়িতে ধান কাটার কাজ করতে এসেছিলেন রবিউল। খেত থেকে ধান কাটার কাঁচি নিয়ে ফেরার পথে একটি নারকেলগাছের নিচে বজ্রপাতে মারা যান রবিউল। সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূরে আলম সিদ্দিকী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
(প্রতিবেদন তৈরিতে তথ্য দিয়েছেন নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম; রাঙামাটি অফিস; চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি, ফরিদপুর অফিস ও রাজবাড়ী প্রতিনিধি)